মিরসরাইয়ে ৩০ বছরের পুরোনো বসতবাড়ির রাস্তা বন্ধ করে ছোট ভাইকে হত্যার হুমকি, প্রতিকার চেয়ে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
মিরসরাইয়ে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে ছোট ভাইকে হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তায় জোরারগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়েচট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বসতবাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে তাঁর ছোট ভাই গিয়াস উদ্দিন জোরারগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। রাস্তা বন্ধের প্রতিবাদ করায় ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার ১ নম্বর করেরহাট ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছত্তরুয়া এলাকার সাহাব উদ্দিন কোম্পানী বাড়িতে।
অভিযুক্ত বড় ভাই সাহাব উদ্দিন ছাড়াও তাঁর দুই ছেলে মিজানুর রহমান ও মশিউর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে এই অভিযোগে আসামি করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী গিয়াস উদ্দিনের বসতবাড়িতে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন অভিযুক্তরা। সেখানে পাকা দেয়াল নির্মাণের জন্য ট্রাকে করে ইট, বালু ও লোহার রড আনা হয়। কাজে বাধা দিলে প্রতিপক্ষের লোকজন গিয়াস উদ্দিনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং থানায় অভিযোগ করলে সপরিবারে হত্যার হুমকি দেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে পরে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। খবর পেয়ে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
ভুক্তভোগীর আরেক ভাই জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাড়িতে চলাচলের জন্য এই রাস্তাটি ব্যবহার করে আসছি। কিন্তু কোনো আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা চরম বিপাকে পড়েছি। বড় ভাই সাহাব উদ্দিনের কাছে লাইসেন্স করা বন্দুক রয়েছে, যা দিয়ে তিনি কথায় কথায় আমাদের মেরে ফেলার ভয় দেখান। বর্তমানে আমরা পুরো পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বড় ভাই সাহাব উদ্দিন দাবি করেন, ‘যে জায়গাটিতে দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে, সেটি আমার ব্যক্তিগত উঠান। আমি আমার নিজস্ব জায়গায় দেয়াল দিচ্ছি। তবে তাঁদের যাতায়াতের জন্য রাস্তাটি আমার উঠানের বাইরে করার পরামর্শ দিয়েছি।’
নিজের অস্ত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার লাইসেন্স করা বন্দুক রয়েছে, বিষয়টি সত্য। তবে আমি এটি শুধু নিজের নিরাপত্তার জন্য রেখেছি, কখনো কোনো পাখিও মারিনি।’
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানান, ভাইদের মধ্যে চলাচলের জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। উভয় পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি মীমাংসার জন্য থানায় বৈঠক হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সুরাহা হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) উভয় পক্ষকে আবারও থানায় ডাকা হয়েছে।

