x

Tenolent

One platform for all types theme

Download thousand of templates and start your business.

Logo

Tenolent

One platform for all types theme

Download thousand of templates and start your business.

[tenolentSC] / results=[3] / label=[latest] / type=[headermagazine]

হাসপাতালের লিফটেই জন্ম নিল শিশু! মানবিকতার এক অনন্য নজির স্থাপন করল মিরসরাইয়ের বিএম হাসপাতাল

মিরসরাইয়ে লিফটে প্রসূতির সন্তান প্রসব। মা ও নবজাতকের সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যয় মওকুফ করে মানবিকতার বিরল নজির গড়ল বিএম হাসপাতাল।
প্রকাশঃ
অ+ অ-
হাসপাতালের লিফটে প্রসূতির সন্তান প্রসব: মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত দেখাল মিরসরাইয়ের বিএম হাসপাতাল

বর্তমান সময়ে যখন চিকিৎসা খাতে ব্যবসায়িক মনোভাব নিয়ে নানা সমালোচনা চারদিকে, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ বিপরীত এক চিত্র দেখা গেল চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এক প্রসূতি নারী হাসপাতালে পৌঁছানোর পর লিফটের সামনেই জন্ম দিলেন সন্তানের। আর এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে চরম পেশাদারিত্ব ও মানবিকতার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বারইয়ারহাটের বিএম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ঘটনার সূত্রপাত গত ৭ অক্টোবর, রোজ বুধবার। সন্ধ্যা নেমে এসেছে, চারদিকে ব্যস্ততা। ঠিক এমন সময়ে মিরসরাই উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পূর্ব হিঙ্গুলী গ্রামের বাসিন্দা মিলন রায়ের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা রায় তীব্র প্রসববেদনা নিয়ে ছুটে আসেন বারইয়ারহাট পৌরসদরে অবস্থিত বিএম হাসপাতালে। কিন্তু নিয়তির খেলা যেন অন্যরকম ছিল। হাসপাতালে প্রবেশ করে চিকিৎসকের কাছে বা লেবার ওয়ার্ডে পৌঁছানোর আগেই লিফটের একেবারে কাছাকাছি এসে ব্যথায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই প্রসূতি। পরিস্থিতি তখন অত্যন্ত জটিল ও সংকটাপন্ন। মুহূর্তের মধ্যেই এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় সেখানে। তবে বিন্দুমাত্র সময়ক্ষেপণ না করে হাসপাতালের দায়িত্বরত নার্স এবং অন্যান্য কর্মীরা উপস্থিত বুদ্ধির জোরে এক অভাবনীয় পদক্ষেপ নেন। তারা দ্রুতগতিতে চারপাশ থেকে কাপড় দিয়ে ঘিরে লিফটের সামনের ওই জায়গাতেই এক অস্থায়ী ও সুরক্ষিত প্রসবকক্ষ তৈরি করে ফেলেন। সেখানেই অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে শিশুটির জন্ম হয়। তবে সন্তান প্রসবের পর আরেক নতুন সংকটের মুখোমুখি হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রসূতি প্রিয়াঙ্কা রায়ের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তারা বুঝতে পারেন যে, ওই নারী কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন বা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, সে সময় তার সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্ক কোনো অভিভাবক বা আত্মীয়স্বজন ছিলেন না। কেবল ৮ থেকে ৯ বছর বয়সী একটি ছোট শিশু তার সঙ্গে ছিল। এমন একটি অদ্ভুত ও অভিভাবকহীন অবস্থায় যেকোনো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই আইনি বা অন্যান্য ঝামেলার কথা ভেবে দ্বিধায় পড়তে পারত। কিন্তু বিএম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখানেও দেখিয়েছে তাদের মানবিক সত্তা। তারা দ্রুততার সঙ্গে ওই প্রসূতিকে হাসপাতালের বেডে ভর্তি করে নেন এবং সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতককে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) স্থানান্তর করেন। শুধু তাই নয়, ওই নারী এবং তার সঙ্গে থাকা শিশুটির খাবারেরও সম্পূর্ণ ব্যবস্থা করা হয় হাসপাতাল থেকেই। রাতেই হাসপাতালের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্থানীয় জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ এবং মিরসরাই উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাবরিনা রহমান লিনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। পরের দিন বৃহস্পতিবার সকালে পরিস্থিতি পরিদর্শনে ছুটে আসেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাবরিনা রহমান লিনা, মিরসরাই পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোহন দে এবং হাসপাতালটির ডেভেলপমেন্ট শাখার কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন। তারা এসে মা ও শিশুর সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে মায়ের অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলেও নবজাতকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে শঙ্কা কাটছিল না। চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। এরপর বিএম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব অত্যাধুনিক আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে শিশুটিকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানোর সুব্যবস্থা করে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় আরেকটি বড় বাধা ছিল আর্থিক সংকট। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রসূতির স্বামী মিলন রায়ের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। চিকিৎসা তো দূরের কথা, হাসপাতালের সাধারণ বিল মেটানোর সক্ষমতাও তার নেই। এমন অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে বিএম হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. ওসমান গণি ভূইয়া এক যুগান্তকারী ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ওই প্রসূতির ডেলিভারি চার্জ, হাসপাতালে ভর্তি, যাবতীয় ওষুধপত্র, খাবার এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানো আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়াসহ সমস্ত খরচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বহন করবে। বর্তমানে মা প্রিয়াঙ্কা রায় বিএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনেকটা সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছেন, তবে নবজাতকটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন আছে। এই ঘটনাটি শুধু মিরসরাই নয়, পুরো দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্যই একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

Delete Comment?

Are you sure you want to permanently delete this comment?

User
OR
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন