ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের মৃত্যু
ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে কলকাতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন।দীর্ঘদিন ধরে মরণব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করার পর অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন। শনিবার, ১০ অক্টোবর সকালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় অবস্থিত অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় ধরে ফুসফুসের ক্যান্সারে ভুগছিলেন। রোটনের পারিবারিক ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠ সূত্র থেকে তার এই অকাল প্রয়াণের খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে। জানা যায়, উন্নত চিকিৎসার আশায় তাকে বেশ কিছুদিন আগেই ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে তার চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। তবে সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটতে শুরু করে। বিশেষ করে শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতা প্রবল আকার ধারণ করলে গত ৪ অক্টোবর তাকে জরুরিভিত্তিতে কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে টানা কয়েকদিন আইসিইউতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কড়া পর্যবেক্ষণে থাকা সত্ত্বেও শেষ রক্ষা হয়নি। শনিবার সকালে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের দিকে তাকালে দেখা যায়, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের পৈতৃক নিবাস চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একসময়ের এই মেধাবী শিক্ষার্থী ছাত্ররাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। তিনি ২০০৬ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রজীবনের বর্ণাঢ্য রাজনীতির পাট চুকিয়ে পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মূল ধারার রাজনীতির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েন এবং দলের বিভিন্ন কার্যক্রমে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। তার এই অকাল প্রয়াণে রাজনৈতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

