x

Tenolent

One platform for all types theme

Download thousand of templates and start your business.

Logo

Tenolent

One platform for all types theme

Download thousand of templates and start your business.

[tenolentSC] / results=[3] / label=[latest] / type=[headermagazine]

আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রেখেছি বলেই আজ আমি বুলবুল টুম্পা

শূন্য থেকে শিখরে পৌঁছানোর গল্প শোনালেন জনপ্রিয় মডেল ও কোরিওগ্রাফার বুলবুল টুম্পা। স্রষ্টার ওপর বিশ্বাস ও সততাই তার সাফল্যের চাবিকাঠি।
প্রকাশঃ
অ+ অ-
আল্লাহর ওপর অবিচল বিশ্বাস ও সততাই আমাকে আজকের বুলবুল টুম্পায় পরিণত করেছে: এক সফল কোরিওগ্রাফারের গল্প

দেশের ফ্যাশন জগত ও শোবিজ অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম বুলবুল টুম্পা। পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি উচ্চতার এই লাস্যময়ী মডেল ও কোরিওগ্রাফারকে একনামে চেনে পুরো দেশ। তবে তার আজকের এই আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। সম্প্রতি সাংবাদিক মো: আবদুল করিম সোহাগের কাছে নিজের জীবনের সেই অজানা গল্পগুলো তুলে ধরেছেন তিনি। সময়টা তখন ১৯৯৭ সাল, টুম্পা তখনো স্কুলের গণ্ডি পেরোননি। বাবা-মাকে হারিয়ে তখন তিনি ভাইদের আশ্রয়ে বড় হচ্ছেন। ঠিক সেই সময়ে তার চাচার এক বন্ধু, যিনি নিজেও মডেলিংয়ের সাথে যুক্ত ছিলেন, টুম্পাকে র‍্যাম্পে হাঁটার প্রস্তাব দেন। তার ধারণা ছিল, এই মেয়েটি ফ্যাশন দুনিয়ায় দারুণ কিছু করবে। কিন্তু সে যুগে মিডিয়া সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা খুব একটা ইতিবাচক ছিল না। তাছাড়া তাদের পরিবারের কেউই কখনো শোবিজে কাজ করেননি। স্বাভাবিকভাবেই অভিভাবক হিসেবে ভাইয়েরা প্রথমে এই প্রস্তাবে তীব্র আপত্তি জানান। তবে পরবর্তীতে অনেক বোঝানোর পর তারা রাজি হন এবং সেখান থেকেই শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়। ১৯৯৮ সালের দিকে অনামিকা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের হয়ে প্রথমবারের মতো র‍্যাম্পে পা রাখেন টুম্পা। এরপর আর তাকে কখনো পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ক্যারিয়ারের শুরুতে মাত্র দু-তিনটি শো করার পরই প্রখ্যাত অভিনেত্রী ও নির্মাতা তানিয়া আহমেদের সাথে কাজ করার সুবর্ণ সুযোগ পান তিনি। এরপর কিংবদন্তি ফ্যাশন আইকন বিবি রাসেলের সাথে কাজ করার মাধ্যমে তার ক্যারিয়ারে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়। ২০০০ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে যতগুলো মেগা ইভেন্ট বা বড় ফ্যাশন শো অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার প্রায় প্রতিটিতেই বুলবুল টুম্পা ছিলেন এক অপরিহার্য নাম। র‍্যাম্পে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পর ২০০৫ সালে তিনি কোরিওগ্রাফিতে যুক্ত হন। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই সম্পূর্ণ বাস্তব অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে নিজেকে একজন দেশের শীর্ষস্থানীয় কোরিওগ্রাফার হিসেবে গড়ে তোলেন তিনি। নতুন প্রজন্মের মডেলদের জন্য একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার তাগিদ থেকে ২০০৬ সালে তিনি একটি গ্রুমিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। তার হাতে গড়া সেই প্রতিষ্ঠান থেকে উঠে এসেছেন সারিকা, অর্ষা, প্রিয়াংকা, মেঘলা, নওরীন, এবিএম সুমন, বাপ্পি, লিন্ডা, আরিয়ানা সানজানা থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় তারকা মাইশা রহমান, স্পৃহা, মেঘলা মুক্তা, জাহিদ ও অধরাসহ অসংখ্য নামি-দামি মুখ। তারা আজ শোবিজে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন। জীবনের এই দীর্ঘ পথচলা সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বুলবুল টুম্পা এক আবেগঘন বার্তা দেন। তিনি বলেন, জীবনে চলার পথে তিনি কখনো নিজের অতীত, শেকড় এবং দুঃসময়ে পাশে থাকা মানুষদের ভুলে যাননি। তার মতে, তার জীবনের প্রতিটি সাফল্যের একমাত্র সাক্ষী মহান সৃষ্টিকর্তা। তিনি সবসময় নিজের কাজের প্রতি সৎ থেকেছেন এবং আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস রেখেছেন। কে তাকে নিয়ে কী ভাবল বা কী করল, সেই হিসাব তিনি সময়ের হাতে এবং মহান রবের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। নিজের সততা ও নিরলস কর্মপ্রচেষ্টাকে সঙ্গী করেই তিনি সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চান। টুম্পার এই গল্প শুধু একজন মডেলের সফলতার গল্প নয়, বরং এটি আত্মবিশ্বাস, সততা ও স্রষ্টার ওপর ভরসা রেখে জয়ী হওয়ার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

Delete Comment?

Are you sure you want to permanently delete this comment?

User
OR
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন