মিরসরাইয়ে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: জুমার বয়ানে সামাজিক প্রতিরোধের ডাক
এমপি নুরুল আমিনের নির্দেশে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। জুমার নামাজের আগে বিশেষ সচেতনতামূলক আলোচনায় ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান।![]() |
| পৌর-বিএনপির আহব্বায়ক-দিদারুল আলম মিয়াজী |
মিরসরাইয়ের মাননীয় সংসদ সদস্য জননেতা জনাব নুরুল আমিন মহোদয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশে 'মাদক জিরো টলারেন্স' নীতি বাস্তবায়নে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় উত্তর জামালপুর হায়দার আলী জামে মসজিদে এক ব্যতিক্রমী ও অত্যন্ত সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। আজ পবিত্র জুমার নামাজের পূর্বমুহূর্তে মসজিদে আগত বিপুল সংখ্যক মুসল্লির উপস্থিতিতে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী এক বিশেষ সচেতনতামূলক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বারইয়ারহাট পৌর বিএনপির সংগ্রামী আহ্বায়ক ও সর্বস্তরের মানুষের প্রিয় অভিভাবক জনাব দিদারুল আলম মিয়াজী।
![]() |
| জোরারগঞ্জ থানার (ওসি)-আব্দুল হালিম |
তাঁর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন জোরারগঞ্জ থানার সুযোগ্য অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব আব্দুল হালিম এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক মাইন উদ্দিন লিটন। নেতৃবৃন্দ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন যৌথ উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মাঝে বিপুল উৎসাহ ও আশার সঞ্চার করেছে। সমবেত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক আবেগঘন ও জোরালো বক্তব্যে দিদারুল আলম মিয়াজী সমাজে মাদকের ভয়াবহতা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ধ্বংসাত্মক দিকগুলো তুলে ধরেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, মাননীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে এই অঞ্চলে মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, মাদক ও সন্ত্রাস কেবল কোনো একক ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট পরিবারের সমস্যা নয়; বরং এটি আমাদের সমগ্র সমাজ ব্যবস্থা এবং আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যতের জন্য এক বিশাল হুমকি। যুবসমাজকে যদি এই মরণনেশার ভয়াল ছোবল থেকে দূরে রাখা না যায়, তবে জাতির ভবিষ্যৎ চরম অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে। তাই কোনো নির্দিষ্ট দল বা মতের গণ্ডিতে আবদ্ধ না থেকে, সমাজের সকল স্তরের সচেতন নাগরিককে ঐক্যবদ্ধভাবে এই সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি। একই অনুষ্ঠানে জোরারগঞ্জ থানার ওসি জনাব আব্দুল হালিম তাঁর বক্তব্যে আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতার ওপর জোর দেন। তাঁর এই দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর মধ্যে নিজেদের সামাজিক দায়িত্ববোধ সম্পর্কে নতুন করে ভাবনার উন্মেষ ঘটায়। পবিত্র জুমার নামাজের মতো একটি আধ্যাত্মিক ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে এমন জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দলমত নির্বিশেষে সকলেই। স্থানীয়রা মনে করেন, প্রতিটি ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান থেকে এমন ইতিবাচক বার্তা নিয়মিত ছড়িয়ে দেওয়া হলে সমাজ থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড খুব দ্রুতই নির্মূল করা সম্ভব। পরিশেষে সকলের প্রতি একটিই চিরন্তন বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়-- আসুন, আমরা সবাই মিলে মাদককে চিরতরে না বলি এবং যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসকে কঠোর হাতে প্রতিহত করে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও শতভাগ নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলি।


