জোরারগঞ্জে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান একাধিক মামলার ৪ আসামি গ্রেফতার।
চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে গণ-উপদ্রব ও একাধিক মামলার ৪ জন আসামি গ্রেফতার। অপরাধ দমনে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ। এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে বিভিন্ন মামলার এজাহারভুক্ত এবং গণ-উপদ্রব সৃষ্টির অভিযোগে মোট ৪ জন আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জোরারগঞ্জ থানার সুযোগ্য অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিমের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় ও নেতৃত্বে থানা পুলিশের একাধিক চৌকস দল এই অভিযানগুলোতে অংশ নেয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় বারইয়ারহাট পৌরসভা এলাকায়। থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম তার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের জামালপুর এলাকায় একটি সফল অভিযান চালান। সেখান থেকে গত ৭ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে দায়ের করা জোরারগঞ্জ থানার ৫ নম্বর মামলার সন্দেহভাজন আসামি ইমাম হোসেন বাবুকে গ্রেফতার করা হয়। ৪০ বছর বয়সী এই আসামির পিতার নাম মৃত মুয়াজ্জেম হোসেন দিদার। অন্যদিকে, অপরাধ দমনে পুলিশের দ্বিতীয় অভিযানটি ছিল আরও চমকপ্রদ। গভীর রাত, ঘড়ির কাঁটায় তখন আনুমানিক পৌনে ৩টা। উপ-পরিদর্শক (এসআই) হান্নান আল মামুন তার দল নিয়ে পূর্ব রায়পুর এলাকায় অভিযান চালান। সেখান থেকে পেনাল কোড ১৮৬০-এর আওতাভুক্ত জোরারগঞ্জ থানার ১ নম্বর মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ফরহাদুল ইসলাম রিফাতকে গ্রেফতার করা হয়। ২০ বছর বয়সী রিফাতের বাড়ি ৮নং দুর্গাপুর ইউনিয়নের পূর্ব রায়পুর এলাকার ৪নং ওয়ার্ডে। এছাড়াও একই রাতে টহল ডিউটি পালনকালে এসআই হান্নান আল মামুন স্থানীয় জনসাধারণের সহায়তায় আরেকটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। রাত আড়াইটার দিকে ১নং করেরহাট ইউনিয়নের অন্তর্গত করেরহাট বাজারের পাশে একটি পাঁচতলা ভবনের সামনের রাস্তায় প্রকাশ্যে চিৎকার-চেঁচামেচি করে জনমনে আতঙ্ক ও উপদ্রব সৃষ্টির ঘটনা ঘটে। এ সময় গণ-উপদ্রব সৃষ্টির অপরাধে দণ্ডবিধির ২৯০ ধারায় দু'জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন ছত্তরুয়া গ্রামের ২৪ বছর বয়সী আলিম উল্লা এবং নোয়াখালীর সেনবাগ থেকে আসা ২৪ বছর বয়সী জান্নাতুল ফেরদৌস। জনবহুল স্থানে এমন উচ্ছৃঙ্খল আচরণের বিরুদ্ধে পুলিশের এই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। থানা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, গ্রেফতারকৃত চারজন আসামির বিরুদ্ধেই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

