জুলাই বিপ্লবের চেতনা ছড়িয়ে দিতে ডাকসুর দুই মাসব্যাপী সাংস্কৃতিক কর্মশালা
জুলাই বিপ্লবের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও বিপ্লবী সাংস্কৃতিক ঐক্যের যৌথ উদ্যোগে দুই মাসব্যাপী আবৃত্তি, অভিনয় ও সঙ্গীত কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের ক্যাফেটেরিয়ায় এ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ। এতে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ, বিশিষ্ট আইনজীবী ও আবৃত্তিশিল্পী নাসিম আহমেদ, বিপ্লবী সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক মৃন্ময় মিজান, নাট্যব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান আসাদ, এ বি ডি তুহিন, বাচিকশিল্পী সারোয়ার হোসাইন খান, কবি মুনসি বোরহান মাহমুদ, কবি আবিদ আজমসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, জুলাই বিপ্লব শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনা নয়; এটি ছিল আত্মমর্যাদা, ন্যায়বিচার ও গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক সংগ্রাম। এ চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে সংস্কৃতিচর্চার বিকল্প নেই। আবৃত্তি, অভিনয় ও সঙ্গীত মানুষের মনন, মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে শুধু স্মরণ নয়, বরং চিন্তা, কর্ম ও সাংস্কৃতিক চর্চায় ধারণ করতে হবে। বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের সৃজনশীল শক্তির বিকাশ অপরিহার্য। এই কর্মশালা শিক্ষার্থীদের শিল্পচর্চার পাশাপাশি ইতিহাস ও দায়িত্ববোধ সম্পর্কে আরও সচেতন করে তুলবে।
সভাপতির বক্তব্যে মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, সংস্কৃতি জাতির আত্মপরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি। কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশবরেণ্য শিল্পীদের কাছ থেকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি জুলাই বিপ্লব, মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলনের চেতনাকে শিল্পের ভাষায় প্রকাশের সুযোগ পাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সুস্থ ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে ডাকসু ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখবে।
মো. আব্দুর রহমান তিতুমীরের সঞ্চালনায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। দুই মাসব্যাপী কর্মশালায় দেশের খ্যাতিমান আবৃত্তিশিল্পী, নাট্যব্যক্তিত্ব, সংগীতশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠকেরা প্রশিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেবেন।

