ধর্ষণে অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় শিবির নেতা জিসান দল থেকে বহিষ্কৃত।
কুমিল্লায় ধর্ষণ ও গর্ভপাতের মামলায় গ্রেপ্তার ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান আহম্মেদকে বহিষ্কার। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে শিবিরের প্রশ্ন।বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাতের মতো গুরুতর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি মো. জিসান আহম্মেদ প্রধান। এই ঘটনার পর তাকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে ছাত্রশিবির। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ এই বহিষ্কারাদেশের কথা নিশ্চিত করেছেন। বিবৃতিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, সাংগঠনিক তদন্তে ভুক্তভোগী ওই নারীর সঙ্গে জিসানের প্রেমের সম্পর্কের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এমন কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ নীতিবহির্ভূত হওয়ায় তাকে দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি, আনীত অভিযোগগুলো আইনি প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হলে ভুক্তভোগী নারীকে সংগঠনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক আইনি সহায়তা প্রদানেরও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে, এই সম্পূর্ণ মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া এবং জিসানের রহস্যজনক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র আপত্তি ও প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি। ছাত্রশিবিরের দাবি, শুক্রবার রাতে জিসানকে পুলিশের পক্ষ থেকে উদ্ধারের কথা জানানো হলেও শনিবার দুপুর দেড়টা পর্যন্ত তার সঙ্গে পরিবার বা সংগঠনের কোনো প্রতিনিধিকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ সময় পুলিশি হেফাজতে থাকায় জিসানের প্রকৃত বক্তব্য বা এই ঘটনার নেপথ্যের আসল কারণ এখনো অজানা। অন্যদিকে, মামলা দায়েরকারী নারীর বড় বোন সাবিকুন্নাহারের বরাত দিয়ে শিবির তাদের বিবৃতিতে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। সাবিকুন্নাহার জানান, শুক্রবার বিকেলে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি পুলিশের দল তাদের বাড়ি থেকে ওই নারীকে আকস্মিকভাবে তুলে নিয়ে যায় এবং সে সময় পরিবারের কাউকেই সঙ্গে যেতে দেওয়া হয়নি। বর্তমানে ওই নারী ও তার বাবাকে পুলিশের জিম্মায় সম্পূর্ণ আলাদা করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের সদস্যরাও তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারছেন না। ভুক্তভোগীর বোন স্বীকার করেছেন যে তিনি জিসান ও তার বোনের মধ্যকার সম্পর্কের বিষয়টি আগে থেকেই জানতেন, তবে বাড়ি থেকে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া বা তড়িঘড়ি করে থানায় মামলা দায়েরের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। স্বাধীনভাবে যোগাযোগের কোনো সুযোগ না থাকায় এই নিখোঁজ ও মামলার আসল রহস্য এখনো অস্পষ্ট বলে দাবি ছাত্রশিবিরের। কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় এক বিধবা নারী কর্তৃক দায়ের করা এই মামলাটি ঘিরে বর্তমানে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

