প্রকৌশল ও ব্যবসার গণ্ডি পেরিয়ে অভিনয়ে দ্যুতি ছড়াতে চান 'তারানা'
প্রকৌশলী ও এমবিএ ডিগ্রিধারী কাজী তারানার অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ। মিস বাংলাদেশ রানারআপ থেকে শোবিজে তাঁর সফল যাত্রার বিস্তারিত জানুন।![]() |
| প্রকৌশলী থেকে অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্নে তারানা |
পেশাগত জীবনে একজন সফল প্রকৌশলী, এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ। শুধু তাই নয়, একজন সফল নারী উদ্যোক্তাও তিনি। এতসব অর্জনের পরও যাঁর মূল লক্ষ্য শোবিজ অঙ্গনে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করা, তিনি হলেন কাজী তারানা। মেধা, সৌন্দর্য এবং স্বপ্নের এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়ে তিনি এগিয়ে চলছেন বিনোদন জগতে। তারানার শিক্ষাজীবন বরাবরই অত্যন্ত ঈর্ষণীয়। তিনি স্বনামধন্য আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকৌশল বিদ্যায় স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে থিসিসের কাজে পাড়ি জমান সংযুক্ত আরব আমিরাতে। পড়াশোনার প্রতি তাঁর অদম্য আগ্রহের প্রমাণ মেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে। তবে ছোটবেলা থেকেই তাঁর চোখে ছিল রঙিন পর্দার স্বপ্ন। অভিনয়ে মনোনিবেশ করার জন্য তিনি গতানুগতিক চাকরির পথে হাঁটেননি। বরং রাজধানীর বনানীতে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব একটি দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান। এই স্বাধীন উদ্যোক্তা জীবন তাঁকে অভিনয়ে পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার ক্ষেত্রে দারুণভাবে সাহায্য করছে। ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত ‘মিস বাংলাদেশ’ সুন্দরী প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তারানাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এই সাফল্য তাঁকে রাতারাতি দর্শকপ্রিয়তা এনে দেয়। পরবর্তী সময়ে ‘ফেস অব টুমরো’ নামের একটি জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো-তে সেরা দশ প্রতিযোগীর তালিকায় নিজের জায়গা পাকা করেন তিনি। এই প্ল্যাটফর্মের সেরা প্রতিযোগীদের নিয়ে ১০টি শর্টফিল্ম নির্মাণের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে তিনি স্বনামধন্য নির্মাতা প্রীতি দত্তের পরিচালনায় একটি বিশেষ প্রজেক্টে কাজ করছেন। এই কাজটি তাঁর অভিনয় ক্যারিয়ারে একটি বড় অভিজ্ঞতা হিসেবে যুক্ত হচ্ছে। অভিনয়ের পাশাপাশি কাজী তারানা নিয়মিত কাজ করছেন বিভিন্ন টেলিভিশন কমার্শিয়াল এবং অনলাইন বিজ্ঞাপনে। গ্ল্যামারাস র্যাম্প মডেলিং, চোখ ধাঁধানো ফটোশুট এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাবলীল উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে চলেছেন প্রতিনিয়ত। এর পাশাপাশি গ্রিন টেলিভিশনে শোবিজ বিষয়ক সংবাদ পাঠিকা হিসেবেও দর্শকরা তাঁকে নিয়মিত দেখতে পাচ্ছেন। শুধু রূপালি পর্দার জগতেই নয়, তারানার সাফল্যের মুকুটে আন্তর্জাতিক সম্মাননার পালকও যুক্ত হয়েছে। ২০২৩ সালে কেনিয়ার নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ১০ম ‘বিল্ড পিস কনফারেন্স’-এ বাংলাদেশের হয়ে সগর্বে প্রতিনিধিত্ব করেন এই প্রতিভাময়ী তরুণী। এছাড়া নাচ, গান ও আবৃত্তিতেও তাঁর রয়েছে সমান পারদর্শিতা। ছোট পরিসরের কাজ দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও, তারানা এখন মুখিয়ে আছেন বড় পর্দায় বা কোনো মেগা প্রজেক্টে প্রধান চরিত্রে নিজের অভিনয় সত্তাকে পুরোপুরি মেলে ধরার জন্য। প্রকৌশলবিদ্যা, সফল উদ্যোক্তা এবং সৃজনশীল শিল্পী - এই বহুমুখী পরিচয়ের সমন্বয়ে কাজী তারানা আগামী দিনে দেশের বিনোদন জগতে নিজের একটি স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবেন, এমনটাই প্রত্যাশা তাঁর ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের। দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এই অদম্য লড়াইয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন বর্তমান প্রজন্মের কাছে এক দারুণ অনুপ্রেরণা।

