x

Tenolent

One platform for all types theme

Download thousand of templates and start your business.

Logo

Tenolent

One platform for all types theme

Download thousand of templates and start your business.

[tenolentSC] / results=[3] / label=[latest] / type=[headermagazine]

মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর ছদ্মবেশে স্বর্ণালংকার চুরির সময় হাতেনাতে আটক ৭ নারী, স্বর্ণ উদ্ধার!

জোরারগঞ্জে মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী সেজে স্বর্ণালংকার চুরির সময় ৭ নারী সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।
প্রকাশঃ
অ+ অ-

নারী চোর চক্রের ৭ সদস্য গ্রেফতার

অপরাধের ধরন পাল্টেছে, সেই সাথে পাল্টেছে অপরাধীদের কৌশল। এবার সাধারণ মানুষের সাথে মিশে গিয়ে, একেবারে রোগীর ছদ্মবেশে হাসপাতালে অভিনব চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ নারী চোর চক্র। চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানাধীন মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমন একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। স্থানীয় সচেতন জনতা এবং জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের তাৎক্ষণিক ও যৌথ শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে এই সংঘবদ্ধ ছদ্মবেশী নারী চোর চক্রের সাতজন সদস্যকে হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয়েছে। সেই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি যাওয়া বেশ কিছু স্বর্ণালংকার। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে সকাল আনুমানিক ১১টা ১০ মিনিটের দিকে। প্রতিদিনের মতোই মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটডোর টিকেট কাউন্টারে সাধারণ রোগীদের ভিড় ছিল। চিকিৎসাসেবা নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন নানা বয়সী মানুষ। আর ঠিক এই সুযোগটিকে কাজে লাগায় চোর চক্রটি। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাধারণ রোগীর বেশ ধরে ১০ থেকে ১১ জন নারীর একটি দল সুকৌশলে ওই লাইনে প্রবেশ করে। এরপর তারা পরিকল্পিতভাবে লাইনে দাঁড়ানো সাধারণ রোগীদের মাঝে কৃত্রিম ভিড় ও ঠেলাঠেলির সৃষ্টি করে। এই আকস্মিক হট্টগোলের সুযোগে অত্যন্ত নিপুণ হাতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা তিনজন নারীর গলা থেকে তিনটি সোনার চেইন কেটে নেয় তারা। চুরি হওয়া এই স্বর্ণালংকারগুলোর আনুমানিক ওজন ছিল ১৭ আনা ২ রতি ১ পয়েন্ট। ভুক্তভোগীরা স্বর্ণ চুরির বিষয়টি বুঝতে পারার সাথে সাথেই সেখানে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যেই খবর পৌঁছে যায় জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে। খবর পেয়ে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশের একটি চৌকস দল। স্থানীয় বিক্ষুব্ধ অথচ সচেতন জনসাধারণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় হাসপাতাল চত্বর থেকেই সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত সাতজন নারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এ সময় তাদের তল্লাশি করে চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে ৬ আনা ২ রতি ১ পয়েন্ট ওজনের স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর থানাধীন ধরমন্ডল এলাকার আমেনা খাতুন (২৫), সালমা ওরফে তানিয়া বেগম (২৫), অজুফা বেগম (২৫), মোসাঃ হালিমা (৩০), মোছাঃ শানজিলা ওরফে সাদিয়া (২৩), এবং তাহমিনা আক্তার (২০)। এছাড়া চক্রের আরেক সদস্য আমিনা খাতুন (৩৬)-এর বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর থানায়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত এই নারীরা চুরির সাথে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা অকপটে স্বীকার করেছে। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এরা সাধারণ কোনো চোর নয়, বরং পেশাদার এবং সংঘবদ্ধ স্বর্ণালংকার চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে এই অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। বিশেষ করে যেখানে মানুষের জনসমাগম বেশি থাকে, যেমন— বিভিন্ন গ্রামীণ মেলা, সাপ্তাহিক হাটবাজার, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও হাসপাতালগুলোকে তারা নিজেদের প্রধান টার্গেট হিসেবে বেছে নিত। ভিড়ের মধ্যে কৃত্রিম হট্টগোল বা ধাক্কাধাক্কি সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষের সর্বস্ব, বিশেষ করে নগদ অর্থ ও মূল্যবান স্বর্ণালংকার লুটে নেওয়াই তাদের প্রধান পেশা। জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, এই সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। এবারের এই চুরির ঘটনায় জোরারগঞ্জ থানায় দণ্ডবিধির ৩৭৯/৪১১/৩৪ ধারায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আসামিদেরকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দর্শক, এই ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, জনসমাগমস্থলে আমাদের আরও কতটা সচেতন হওয়া প্রয়োজন। ছদ্মবেশী এসব অপরাধীদের হাত থেকে বাঁচতে নিজের মূল্যবান জিনিসপত্রের প্রতি বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের কোনো বিকল্প নেই।

Delete Comment?

Are you sure you want to permanently delete this comment?

User
OR
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন