চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জে চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ মামলার মূল আসামি নুরুন্নবী গ্রেপ্তার, আদালতে সোপর্দ
চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জে চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. নুরুন্নবীকে চিনকি আস্তানা রেলওয়ে স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানা এলাকায় পুলিশের একটি অত্যন্ত সফল ও বিশেষ অভিযানে চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. নুরুন্নবীকে (৪১) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সমাজে অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের যে জিরো টলারেন্স নীতি, এটি তারই একটি জ্বলন্ত প্রমাণ। ২৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে জোরারগঞ্জ থানাধীন চিনকি আস্তানা রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো. নুরুন্নবী পেশায় একজন রিকশার মেকানিক বা মিস্ত্রি। তার পিতার নাম মৃত আনোয়ার হোসেন (যিনি এলাকায় আনা মিয়া নামে পরিচিত ছিলেন) এবং মাতার নাম মৃত মাজেদা খাতুন। নুরুন্নবী ৩নং জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত দক্ষিণ খিলমুরারী এলাকার একজন স্থায়ী বাসিন্দা। ঘটনার ভয়াবহতা ও মামলার পেছনের কথা বলতে গিয়ে পুলিশ জানায়, গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের খিলমুরারী এলাকায় একটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। সেদিন ভিকটিম নুরজাহান বেগমের (৩৮) ভাড়া করা বাসায় সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ও অনাধিকার প্রবেশ করে আসামি। এরপর সেখানে ভিকটিমকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। এই পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে ভিকটিম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তিনি নিজেই বাদী হয়ে ন্যায়বিচারের আশায় জোরারগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গত ২০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দায়েরকৃত এই মামলাটি (মামলা নং-২৩) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধিত ২০২০) এর ৯(১) ধারা এবং বাংলাদেশ পেনাল কোডের প্রাসঙ্গিক ধারায় নথিভুক্ত করা হয়। মামলাটি রুজু হওয়ার পর থেকেই আসামিদের ধরতে তৎপর হয়ে ওঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জনাব মোহাম্মদ আব্দুল হালিম-এর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আকরামুল হকের সুযোগ্য নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্সের সমন্বয়ে একটি বিশেষ আভিযানিক দল গঠন করা হয়। এই দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর চিনকি আস্তানা রেল স্টেশন এলাকায় একটি ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে। সফল এই অভিযানে মামলার এজাহারনামীয় ২ নম্বর আসামি নুরুন্নবীকে তার পালানোর চেষ্টাকালে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পরপরই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি নুরুন্নবী উক্ত বর্বরোচিত ধর্ষণের ঘটনার সাথে নিজের সরাসরি জড়িত থাকার কথা অকপটে স্বীকার করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসামির বিরুদ্ধে সকল ধরনের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এই সফল অভিযানের মধ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও একবার প্রমাণ করল যে, অপরাধী যতই ধূর্ত হোক না কেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিতে আইনের হাত থেকে তাদের কোনো নিস্তার নেই।

