রূপালী পর্দায় সানজিদা তাসনীমের নতুন অধ্যায়: ফ্যাশন ডিজাইন থেকে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ ও বড় পর্দায় সাফল্যের 'গল্প'
ফ্যাশন ডিজাইন থেকে অভিনয়ে এসে ‘রূপনগর’ ও ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ দিয়ে সাড়া ফেলা সানজিদা তাসনীমের রূপালী পর্দায় সাফল্যের চমকপ্রদ গল্প।![]() |
| ‘রূপনগর’ থেকে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’: অভিনয়ের নিজস্ব বলয় তৈরিতে 'সানজিদা তাসনীম' |
বিনোদন জগতের ঝলমলে আকাশে নতুন এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম সানজিদা তাসনীম। গ্ল্যামার আর অভিনয়ের নিখুঁত মিশেলে তিনি ইতোমধ্যে জয় করে নিয়েছেন অগণিত দর্শকের হৃদয়। ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের সৃজনশীল জগত থেকে রূপালী পর্দার বিস্তৃত ক্যানভাসে তার এই আগমন খুব বেশি দিনের না হলেও, নিজের মেধা ও পরিশ্রমে তিনি হয়ে উঠেছেন বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম সম্ভাবনাময় মুখ। দীপ্ত টেলিভিশনের তুমুল জনপ্রিয় মেগা ধারাবাহিক ‘রূপনগর’-এর মাধ্যমে যে সফল ক্যারিয়ারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল, তা এখন ছোট পর্দার গণ্ডি পেরিয়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং রূপালী পর্দায় সগৌরবে নিজের রাজত্ব বিস্তার করছে। চলুন জেনে নিই এই গুণী অভিনেত্রীর অজানা গল্প ও ক্যারিয়ারের দারুণ সব বাঁকবদলের কথা। অভিনয়ের রঙিন দুনিয়ায় সানজিদার পা রাখাটা ছিল অনেকটাই কাকতালীয়। ফ্যাশন ডিজাইনিং বিষয়ে উচ্চতর পড়াশোনা শেষ করে তিনি মূলত নিজের তৈরি পোশাকের ব্যবসায় মনোনিবেশ করেছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের লিখন ছিল ভিন্ন। এক কাছের বন্ধুর উৎসাহে দীপ্ত টিভির রিয়েলিটি শো ‘স্টার হান্ট’-এ নাম লেখান তিনি। নিজের সুপ্ত প্রতিভার জোরে সেই প্রতিযোগিতায় সেরা তিনের তালিকায় নিজের নাম খোদাই করে নেন। আর এই সাফল্যই তার সামনে খুলে দেয় সম্ভাবনার নতুন এক দরজা। ফলশ্রুতিতে সুযোগ মেলে দীপ্ত টিভির দীর্ঘ মেগা ধারাবাহিক ‘রূপনগর’-এ কাজ করার। সম্প্রতি এই নাটকটির ৩১১টি পর্বের সফল সম্প্রচার শেষ হয়েছে। নিজের প্রথম দিককার এই কাজ প্রসঙ্গে সানজিদা এক আবেগঘন স্মৃতিচারণে জানান, দীর্ঘ সময় ধরে এই ধারাবাহিকে কাজ করাটা তার জন্য এক অনন্য সাধারণ অভিজ্ঞতা ছিল। এই প্রজেক্টের সুবাদেই প্রখ্যাত নির্মাতা শিহাব শাহীনসহ মিডিয়া পাড়ার অনেক স্বনামধন্য পরিচালকদের সাথে তার সুসম্পর্ক ও কাজের সুযোগ তৈরি হয়। মূলত ‘রূপনগর’ ধারাবাহিকটিই তার ক্যারিয়ারের পথচলাকে মসৃণ ও সাবলীল করেছে। তবে সানজিদার অভিনয় জীবনের একটি অন্যতম বড় টার্নিং পয়েন্ট হলো গুণী নির্মাতা শিহাব শাহীন পরিচালিত জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘ক্যাকটাস’। এই সিরিজে তিনি সময়ের অন্যতম আলোচিত গায়ক ও অভিনেতা প্রীতম হাসানের বোনের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে কুড়িয়েছেন বিস্তর প্রশংসা। গল্পে তার চরিত্রটির গভীরতা এতই প্রবল ছিল যে, এটি মুক্তির পরপরই শোবিজ অঙ্গনের নামকরা সব নির্মাতারা তার সাথে কাজ করতে প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করেন। এই ধারাবাহিকতায় এবার তিনি যুক্ত হয়েছেন কাজল আরেফিন অমির পরিচালনায় দেশের অন্যতম সাড়া জাগানো মেগা সিরিয়াল ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এ। জানা গেছে, গত এক মাস ধরে অত্যন্ত ব্যস্ততার সাথে এই নাটকের শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহ থেকেই দর্শকপ্রিয় এই সিরিজে সানজিদার অভিনীত পর্বগুলোর সম্প্রচার শুরু হবে। এর পাশাপাশি সম্প্রতি ‘ক্যাফে আমব্রেলা’ শিরোনামের একটি ব্যতিক্রমী গল্পের নাটকেও তার অনবদ্য অভিনয় নজর কেড়েছে। সেখানে প্রতিভাবান অভিনেতা সাইদুর রহমান পাভেলের বিপরীতে স্ত্রীর চরিত্রে হাজির হয়েছেন তিনি, যেখানে একটি রিসোর্ট পরিচালনা এবং পারিবারিক নানা টানাপোড়েনের চমৎকার মনস্তাত্ত্বিক রূপায়ণ তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সানজিদা জানান, ছোট পর্দার পাশাপাশি তিনি এখন ওয়েব ফিল্ম ও পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্রেও সমান তালে কাজ করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি জুয়েল মাহমুদের পরিচালনায় একটি ওয়েব ফিল্ম এবং সহীদ-উন নবীর একক নাটক ‘প্রেমিকা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি’-এর কাজ অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া খুব শীঘ্রই আরশ খান এবং মিফতাহ আনানের সাথে আরও দুটি নতুন মেগা প্রজেক্টের কাজ শুরু করার কথা রয়েছে তার। বড় পর্দার ঝলমলে জগতেও নিজেকে দারুণভাবে মেলে ধরছেন এই লাস্যময়ী অভিনেত্রী। ইতোমধ্যে তিনি প্রখ্যাত নির্মাতা আকা রেজা গালিবের পরিচালনায় সরকারি অনুদানের চলচ্চিত্র ‘মস্ত বড়লোক’-এর শুটিং শেষ করেছেন। শুধু তাই নয়, চলতি অক্টোবরের শেষভাগে রিজওয়ানুল ইসলাম সানজিদের নতুন সিনেমা ‘সমীকরণের বাইরে’-এর শুটিং ফ্লোরেও ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর কথা রয়েছে তার। অন্যদিকে, অভিনয়ে নিজের শতভাগ মনোযোগ দেওয়ার কারণে দীর্ঘদিনের গড়ে তোলা পোশাক ব্যবসা থেকে সরে আসার এক কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সানজিদা। একসময় চীন থেকে সরাসরি কাপড় আমদানি করে নিজস্ব ডিজাইনে বাজারজাত করলেও, এখন সেই শোরুম পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়ে কেবল শিল্পের প্রতিই নিজেকে সঁপে দিয়েছেন তিনি। তবে তার স্বপ্ন আকাশছোঁয়া। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করার স্বপ্ন দেখেন তিনি। জয়া আহসান ও আজমেরী হক বাঁধনের মতো গুণী অভিনেত্রীরা যেভাবে বহির্বিশ্বে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন, সানজিদাও ঠিক সেই পথেই হাঁটতে চান। সেই চূড়ান্ত লক্ষ্যকে সামনে রেখেই প্রতিদিন নিজেকে নতুন করে প্রস্তুত করছেন এই মেধাবী তরুণী। অদম্য ইচ্ছা ও কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি একদিন সফলতার সেই সোনালী চূড়ায় পৌঁছাবেন এমনটাই প্রত্যাশা তার ভক্ত-অনুরাগীদের।

