বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের উন্নয়ন মডেল: আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব বাড়াতে যুক্তরাজ্য সফরে ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান
জলবায়ু সহনশীলতা ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব বাড়াতে যুক্তরাজ্য সফরে ইএসডিও প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান।![]() |
| যুক্তরাজ্য সফরে ESDO’র প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান। |
বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা এবং মানবিক কার্যক্রমের সফল মডেলকে বিশ্বমঞ্চে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে এক তাৎপর্যপূর্ণ যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছেন ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন বা ইএসডিও-এর স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান। স্টার্ট হিউম্যানিটারিয়ান হাব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হিসেবেও অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করা এই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে অবস্থান করবেন। তাঁর এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফরের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা, জলবায়ু মোকাবিলা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রযুক্তিকে আন্তর্জাতিক মহলের গবেষণা ও উদ্ভাবনের সাথে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত করা। জানা গেছে, এই সফরে তাঁর যোগ্য সঙ্গী হিসেবে সাথে থাকছেন ইকো কলেজের অধ্যক্ষ ড. সেলিমা আখতার এবং ইয়ুথ এনগেজমেন্টের টিম লিডার শাশ্বত জামান। সফরের সুবিস্তৃত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ড. জামান যুক্তরাজ্যের একাধিক শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ধারাবাহিক বৈঠক ও আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশ নেবেন। এর মধ্যে আগামী ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি বিশ্বখ্যাত বাথ ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অফ সোশ্যাল অ্যান্ড পলিসি সায়েন্সেসের গবেষক ও অধ্যাপকদের সাথে গভীর মতবিনিময়ে মিলিত হবেন। অধ্যাপক জো ডিভাইন এবং ড. ম্যাথিল্ডে মাইট্রটের সাথে অনুষ্ঠিতব্য এসব উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইএসডিও এবং বাথ ইউনিভার্সিটির মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করা হবে। বিশেষ করে যৌথ গবেষণা, পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট প্লেসমেন্ট প্রোগ্রাম, চরম দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা বা জাস্ট ট্রানজিশন এবং যুব সমাজের দক্ষতা বৃদ্ধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের সদ্য অনুমোদন পাওয়া 'ইকো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি' বা ইইউএসটি-এর আধুনিক পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, ব্যবহারিক শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা নিয়েও দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা হবে। এরপর আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর ড. জামান অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির স্মিথ স্কুল অফ এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড দ্য এনভায়রনমেন্ট আয়োজিত 'ওয়ার্ল্ড ফোরাম অন এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড দ্য এনভায়রনমেন্ট ২০২৬'-এ একজন সম্মানীয় ডেলিগেট হিসেবে যোগ দেবেন। দিনব্যাপী এই মেগা ফোরামে তিনি বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থার ভবিষ্যৎ, গ্রিন জিওইকোনোমিকস, প্যারিস ২.০ এবং জলবায়ু মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগান্তকারী ব্যবহার নিয়ে কথা বলবেন। গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর দুর্যোগ মোকাবিলার আগাম প্রস্তুতি এবং জলবায়ু অর্থায়নে বাংলাদেশের স্থানীয় নেতৃত্বের অসামান্য অভিজ্ঞতা তিনি আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারক ও গবেষকদের সামনে অত্যন্ত সুচারুভাবে তুলে ধরবেন। সফরের ধারাবাহিকতায় ৩০ সেপ্টেম্বর লন্ডনের ফোরার ৬০ লন্ডন ওয়ালে স্টার্ট নেটওয়ার্কের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হবেন ড. জামান। সেখানে স্থানীয় পর্যায়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে আরও বেগবান করা, দুর্যোগকালীন ঝুঁকি অর্থায়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির সামগ্রিক রূপরেখা নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা হবে। সফরের একেবারে শেষ পর্যায়ে আগামী ১ অক্টোবর কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত টেকসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন ফোরামে বিশেষ অংশ নেবেন তিনি। কেমব্রিজ ইনস্টিটিউট ফর সাসটেইনেবিলিটি লিডারশিপ বা সিআইএসএল এবং তাইওয়ানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাপ্লায়েড রিসার্চের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক ফোরামে সরকার, একাডেমিয়া এবং শিল্পখাতের বৈশ্বিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। সেমিকন্ডাক্টর, এজ কম্পিউটিং এবং স্মার্ট স্বাস্থ্যসেবার মতো অত্যাধুনিক বিষয়ের পাশাপাশি ড. জামান প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবহার নিয়ে নিজের সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন। বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, ক্যাশলেস ক্ষুদ্রঋণ এবং দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ নিয়ে তাঁর তথ্যবহুল বক্তব্য বিশ্বমঞ্চে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই দূরদর্শী সফর প্রসঙ্গে ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান দৃঢ়তার সাথে জানান, তাঁদের মূল লক্ষ্য কেবল আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে প্রথাগত সম্পর্ক স্থাপন নয়, বরং বাংলাদেশের মাঠপর্যায়ের স্থানীয় জ্ঞান ও অসামান্য উদ্ভাবনকে বিশ্বের সর্বাধুনিক গবেষণা ও প্রযুক্তির সাথে মিলিয়ে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা। তিনি আরও জানান, ইইউএসটি-এর মাধ্যমে এমন একটি বিশ্বমানের গবেষণাধর্মী শিক্ষাপরিবেশ গড়ে তোলা হবে, যা আগামী দিনে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও টেকসই উন্নয়নে সুদূরপ্রসারী এবং ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

