ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন মোনামীর পদত্যাগ!
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন মোনামীর পদত্যাগ। ফেসবুকে এক আবেগঘন দীর্ঘ পোস্টে জানালেন নিজের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার কথা।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সদ্য সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদের পদত্যাগের পরপরই এবার সহকারী প্রক্টরের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন শেহরীন আমিন মোনামী। সোমবার একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে এবং নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ ও আবেগঘন স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তিনি এই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সংবাদমাধ্যম ও ভিডিও প্রতিবেদনের জন্য এই ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক প্রশাসনিক পটপরিবর্তনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। শেহরীন আমিন মোনামী তার ফেসবুক পোস্টে নিজের শিক্ষকতা জীবনের দীর্ঘ সাত বছরের বিচিত্র অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করলেও প্রশাসনিক কোনো দায়িত্ব পালনের পূর্বপরিকল্পনা বা ইচ্ছা তার ছিল না। তবে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট এক বিশেষ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে, যখন 'নতুন বাংলাদেশ' গড়ার স্বপ্ন দেশের প্রতিটি মানুষের চোখেমুখে, ঠিক তখনই তাকে এই গুরুদায়িত্ব গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। অপেক্ষাকৃত তরুণ এবং জুনিয়র একজন লেকচারার হওয়া সত্ত্বেও এমন একটি সংবেদনশীল পদে কাজের সুযোগ পাওয়াকে তিনি নিজের জন্য এক অভাবনীয় প্রাপ্তি বলে উল্লেখ করেছেন। নিজের মাতৃসম বিদ্যাপীঠের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পেয়ে তিনি সে সময় অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত ছিলেন। পদত্যাগের এই ঘোষণায় তিনি সাবেক প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। মোনামী জানান, চরম উত্তপ্ত ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি কীভাবে হাসিমুখে এবং পরম ধৈর্যের সাথে মোকাবিলা করতে হয়, তা তিনি সাইফুদ্দীন স্যারের কাছ থেকেই গভীরভাবে অনুধাবন করেছেন। ক্ষমতা থাকার পরও সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতি অপরিসীম মমতা ও ক্ষমার যে দৃষ্টান্ত তারা স্থাপন করেছিলেন, তা সত্যিই বিরল। জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং তৎপরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি যে নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল, তা ভবিষ্যতে দেশের আর কোনো প্রক্টরিয়াল টিমকে মোকাবিলা করতে হবে কি না, তা নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। নিজের মেয়াদের সফলতা বা ব্যর্থতার কোনো গাণিতিক হিসাব মেলাতে নারাজ এই তরুণ শিক্ষক। বরং একটি অসাধারণ টিমের সাথে কাজ করার দুর্লভ অভিজ্ঞতাকেই তিনি জীবনের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন। বিদায়বেলায় তিনি নবনিযুক্ত প্রক্টর এবং তার নতুন টিমকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তাদের আগামী দিনের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেছেন। উল্লেখ্য, এর ঠিক একদিন আগে গত রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ। তারই ধারাবাহিকতায় এবার শেহরীন আমিন মোনামীর এই পদত্যাগের ঘটনাটি ঘটলো, যা বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

