x

Tenolent

One platform for all types theme

Download thousand of templates and start your business.

Logo

Tenolent

One platform for all types theme

Download thousand of templates and start your business.

[tenolentSC] / results=[3] / label=[latest] / type=[headermagazine]

বিয়ের জন্য ঋণ দেবে ব্যাংক, জেনে নিন শর্ত

বিয়ের খরচ নিয়ে চিন্তিত? বাংলাদেশে বিবাহ ঋণ পাওয়ার উপায়, ব্যাংক ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জানুন।
প্রকাশঃ
অ+ অ-

বিয়ে নিয়ে ভাবছেন, কিন্তু আর্থিক সংগতি নিয়ে চিন্তায় আছেন? হতাশ হওয়ার কিছু নেই! আপনার এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছে দেশের কিছু ব্যাংক। তারা বিবাহ ঋণ (ম্যারেজ লোন) নামে বিশেষ ঋণ সুবিধা দিচ্ছে, যা আপনার বিয়ের খরচ মেটাতে সাহায্য করবে। এছাড়াও, ব্যক্তিগত ঋণ (পার্সোনাল লোন) নিয়েও বিয়ের খরচ চালানো সম্ভব। তবে মনে রাখবেন, যেকোনো ঋণ অনুমোদনের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ব্যাংক ও গ্রাহকের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল।

বিবাহ ঋণের খুঁটিনাটি

সাধারণত ব্যক্তিগত ঋণ বা বিবাহ ঋণের জন্য কোনো জামানত প্রয়োজন হয় না। তবে, ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে ব্যাংক আপনার মাসিক আয়, চাকরির নিশ্চয়তা, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং লেনদেনের ইতিহাস বিবেচনা করে।

ঋণের পরিমাণ: বিয়ের জন্য আপনি ২৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। বিভিন্ন ব্যাংকের পাশাপাশি কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানও এই ধরনের ঋণ সুবিধা দিয়ে থাকে।

পরিশোধের মেয়াদ: এই ঋণ মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করতে হয় এবং এর সর্বোচ্চ মেয়াদ ৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে। তবে মনে রাখবেন, কিস্তির সংখ্যা বাড়লে সুদের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়।

কারা এই ঋণ নিতে পারবেন?

একজন চাকরিজীবী বা অন্য যেকোনো পেশার মানুষের ক্ষেত্রে বিবাহ বা ব্যক্তিগত ঋণের পরিমাণ নির্ভর করে আবেদনকারীর মাসিক আয়, চাকরির ধরন, চাকরির অভিজ্ঞতা, বয়স এবং পূর্ববর্তী লেনদেনের ইতিহাসের ওপর। যাদের স্থায়ী চাকরি এবং বেশি আয়, তারা সাধারণত ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকেন। ব্যাংক সাধারণত নিশ্চিত করে যে, মাসিক কিস্তির বোঝা যেন গ্রাহকের আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। তাই কে কত টাকা ঋণ পাবেন, তা মূলত তার আর্থিক সামর্থ্যের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।

কোন ব্যাংকগুলো বিবাহ ঋণ দেয়?

বাংলাদেশে বেশ কিছু ব্যাংক বিশেষ বিবাহ ঋণ সুবিধা প্রদান করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো: উত্তরা ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, ইউসিবি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ইত্যাদি। এছাড়াও, বেশিরভাগ ব্যাংক ব্যক্তিগত ঋণের আওতায় বিয়ের খরচ মেটানোর জন্য ঋণ দিয়ে থাকে।

বিভিন্ন ব্যাংকের অফার

চলুন, কিছু ব্যাংকের বিবাহ ঋণের অফার সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক:

  • এনসিসি ব্যাংক: এনসিসি ব্যাংক ব্যক্তিগত ঋণের আওতায় ১ লাখ টাকা থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিবাহ ঋণ দিয়ে থাকে, যা বিয়ের জন্য সর্বোচ্চ সীমা। চাকরিজীবী, জমির মালিক এবং ব্যবসায়ীরা এই ঋণ নিতে পারবেন। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ১ থেকে ৫ বছর। চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে মাসিক আয় কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা এবং অন্যদের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৪০ হাজার টাকা হতে হবে।
  • উত্তরা ব্যাংক: উত্তরা ব্যাংক থেকে সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বিয়ের জন্য ঋণ পাওয়া যায়। এই ঋণ ১ থেকে ৩ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়।
  • মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (MTB): মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক থেকে ২ লাখ টাকা থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যক্তিগত ঋণের আওতায় বিয়ের জন্য ঋণ নেওয়া যায়। ২১ থেকে ৬৫ বছর বয়সী চাকরিজীবী এবং ব্যবসায়ীরা এই ঋণ নিতে পারবেন।
  • ইউসিবি: ইউসিবিও বিয়ের জন্য ঋণ সুবিধা দেয়। এই ব্যাংক থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যায়, যা ৫ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়। চাকরিজীবী, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী, জমির মালিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ এই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
  • সীমান্ত ব্যাংক (বিজিবি সদস্যদের জন্য): সীমান্ত ব্যাংক শুধুমাত্র বিজিবি সদস্যদের জন্য বিশেষ বিবাহ ঋণ প্রদান করে। এই ঋণ কেবল সদস্যের নিজের বিয়ের জন্য প্রযোজ্য হলেও, সন্তানের বিয়ের ক্ষেত্রেও এটি নেওয়া যাবে। সাধারণ সদস্যদের জন্য ঋণের সীমা ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত আছে। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছর। এই ঋণ পেতে হলে আবেদনকারীকে বিজিবির স্থায়ী সদস্য হতে হবে এবং ন্যূনতম ৬ বছরের সক্রিয় চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বয়স হতে হবে ২৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, তবে সন্তানের বিয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫৬ বছর পর্যন্ত এই ঋণ নেওয়া যাবে।

ঋণ পেতে কী কী কাগজপত্র লাগবে?

বিয়ের জন্য ঋণ পেতে হলে সাধারণত নিম্নলিখিত কাগজপত্রগুলোর প্রয়োজন হয়:

  • জাতীয় পরিচয়পত্র
  • পাসপোর্ট সাইজ ছবি
  • চাকরির প্রমাণপত্র (যেমন: আইডি কার্ড, নিয়োগপত্র)
  • সর্বশেষ ৩ থেকে ৬ মাসের পে-স্লিপ
  • ব্যাংক হিসাবের বিবরণী
  • কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) সনদ
  • কিছু ক্ষেত্রে অনাপত্তি সনদ (এনওসি)

এছাড়াও, যেহেতু এই ঋণ একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছে, তাই প্রয়োজনে ব্যাংক বিয়ের কার্ড, চিকিৎসার কাগজপত্র বা ভ্রমণ পরিকল্পনার কপি চাইতে পারে। পাশাপাশি, বর বা কনের সাম্প্রতিক তোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবিও প্রয়োজন হতে পারে।

আপনার বিয়ের পরিকল্পনা সফল হোক! যদি এই বিষয়ে আরও কিছু জানতে চান, তবে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।

Delete Comment?

Are you sure you want to permanently delete this comment?

User
OR
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন