x

Tenolent

One platform for all types theme

Download thousand of templates and start your business.

Logo

Tenolent

One platform for all types theme

Download thousand of templates and start your business.

[tenolentSC] / results=[3] / label=[latest] / type=[headermagazine]

বাংলাদেশের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করলো ভারত

বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের জন্য ভারতীয় স্থলবন্দর ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে পাঠানোর ট্রানজিট সুবিধা বাতিল করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় শুল্ক বোর্ড (সিবিআইসি).
প্রকাশঃ
অ+ অ-
ভারতীয় স্থলবন্দর ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে পণ্য পাঠাতে পারবে না বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের জন্য ভারতীয় স্থলবন্দর ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে পাঠানোর ট্রানজিট সুবিধা বাতিল করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় শুল্ক বোর্ড (সিবিআইসি)। এর ফলে ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে স্থলপথে বাংলাদেশের পণ্য ভারত থেকে তৃতীয় কোনো দেশে যাওয়ার সুযোগ আপাতত বন্ধ হয়ে গেল। এতদিন স্থলপথে বাংলাদেশ থেকে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারের মতো দেশে পণ্য পরিবহন করা হতো।

মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব ইনডাইরেক্ট ট্যাক্সেস অ্যান্ড কাস্টমস এই সুবিধা বাতিল করে একটি আদেশ জারি করেছে। একইসঙ্গে ২০২০ সালের ২৯ জুন দেওয়া এ সংক্রান্ত আদেশটিও বাতিল করা হয়েছে।

ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব ইনডাইরেক্ট ট্যাক্সেস অ্যান্ড কাস্টমসের ওয়েবসাইটে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ভারতের জারি করা ওই আদেশে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের আদেশ অনুসারে বাংলাদেশ থেকে তৃতীয় কোনো দেশে পণ্য রপ্তানিতে ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে ভারতের একটি শুল্ক স্টেশন ব্যবহার করে অন্য কোনো বন্দর বা বিমানবন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে এখন সেন্ট্রাল বোর্ড অব ইনডাইরেক্ট ট্যাক্সেস অ্যান্ড কাস্টমস এই সুবিধাটি বাতিল করল।

আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব পণ্যবাহী যানবাহন ইতোমধ্যে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে, সেগুলো দ্রুত ভারতের ভূখণ্ড ত্যাগ করতে পারবে।

বর্তমানে স্থলপথে বাংলাদেশ থেকে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে মূলত নেপাল ও ভুটানে পণ্য পরিবহন করা হয়। এক্ষেত্রে ট্রান্সশিপমেন্ট প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে নেপাল ও ভুটানে রপ্তানির সময় ভারতের ভূখণ্ড অতিক্রম করতে হয়। বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ভারতের ভূখণ্ড পেরিয়ে নেপাল ও ভুটান সীমান্ত পর্যন্ত পণ্যের যানবাহন (ট্রাক, ট্রেইলার) পরিবর্তন করা হয়। ভারত এখন এই ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধাটি বাতিল করলো।

এর আগে, ভারতের রপ্তানিকারকরা, বিশেষ করে পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা, প্রতিবেশী বাংলাদেশকে দেওয়া এই সুবিধা প্রত্যাহারের জন্য নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছিলেন।

দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) জানিয়েছে, এই সুবিধার ফলে ভুটান, নেপাল এবং মিয়ানমারের মতো দেশে বাংলাদেশের রপ্তানির বাণিজ্য প্রবাহ স্বাভাবিক ছিল। ভারত ২০২০ সালের জুনে বাংলাদেশকে পণ্য রপ্তানির এই সুবিধা প্রদান করেছিল।

ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার এমন এক সময়ে ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশকে দেওয়া সুবিধা বাতিল করলো, যার কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ভারত, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশ ও অঞ্চলের বিরুদ্ধে উচ্চমাত্রার শুল্ক আরোপ করেছে।

আগের বিজ্ঞপ্তিতে ভারতীয় বন্দর ও বিমানবন্দরগুলোতে যাওয়ার পথে দেশটির স্থল শুল্ক স্টেশন (এলসিএসএস) ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে তৃতীয় দেশে রপ্তানি কার্গো ট্রান্সশিপমেন্টের অনুমতি দেওয়া হতো। ভারতীয় বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্ত পোশাক, পাদুকা, রত্ন এবং গহনার মতো কয়েকটি ভারতীয় রপ্তানি খাতের জন্য সহায়ক হবে।

বিশ্ব বাণিজ্যে পোশাক খাতে ভারতের অন্যতম প্রধান প্রতিযোগী বাংলাদেশ। ভারতীয় রপ্তানিকারকদের সংগঠন ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনসের (এফআইইও) মহাপরিচালক অজয় সাহাই বলেছেন, ‘‘এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন আমাদের কার্গো পরিবহনে অতিরিক্ত সক্ষমতা তৈরি হবে। অতীতে রপ্তানিকারকরা বাংলাদেশকে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা দেওয়ার কারণে বন্দর ও বিমানবন্দরে স্থান সংকটের অভিযোগ করতেন।’’

এর আগে, ভারতের পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন এইপিসি বাংলাদেশকে দেওয়া এই সুবিধার আদেশ স্থগিত করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিল। ওই সুবিধার আওতায় দিল্লি এয়ার কার্গো ভবনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানি কার্গো তৃতীয় দেশে ট্রান্স-শিপমেন্টের অনুমতি ছিল।

এপিসির চেয়ারম্যান সুধীর সেখরি বলেছিলেন, “প্রত্যেক দিন গড়ে প্রায় ২০ থেকে ৩০টি পণ্যবাহী ট্রাক দিল্লিতে আসে, যা কার্গোর চলাচলকে ধীর করে দেয় এবং এয়ারলাইন্সগুলো এই ধীরগতির সুযোগ নিয়ে অযৌক্তিক সুবিধা আদায় করছে।”

ভারতীয় থিঙ্ক ট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের (জিটিআরআই) প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব মনে করেন, “এই সুবিধা প্রত্যাহার করার ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি ও আমদানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

Delete Comment?

Are you sure you want to permanently delete this comment?

User
OR
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন